​মিন্দরীসের ঘটনা ; ইতিহাসের শিক্ষা ও  ইউরোপ আমেরকার ইসলাম ধংসের সফল পদ্ধতি

মিন্দরীসের ঘটনা

একবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিস পার্টি অব তুরস্ক-এর প্রধান আদনান মিন্দরীস বিমানযোগে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে বিমানের ইঞ্জিন অচল হয়ে গেল। ক্যাপ্টেন ঘোষণা দিলেন, বিমানের বিপর্যয় নিশ্চিত। সবাইকে জীবন রক্ষাকারী বা প্যারাসুট জ্যাকেট দেয়া হল। আদনানও জামা পরিধান করল এবং আল্লাহ্র কাছে এ বলে মানত করল যে, যদি তুমি আমাকে রক্ষা কর এবং তুরস্কের শাসন ক্ষমতা আমার হাতে থাকে, তাহলে আমি তুরস্কের বুকে পুনরায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা করব। আল্লাহ্ এ ধরণের লোকদের ব্যাপারে বলেছেন-

ﺣَﺘَّﻰٰ ﺇِﺫَﺍ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔُﻠْﻚِ ﻭَﺟَﺮَﻳْﻦَ ﺑِﻬِﻢ ﺑِﺮِﻳﺢٍ ﻃَﻴِّﺒَﺔٍ ﻭَﻓَﺮِﺣُﻮﺍ ﺑِﻬَﺎ ﺟَﺎﺀَﺗْﻬَﺎ ﺭِﻳﺢٌ ﻋَﺎﺻِﻒٌ ﻭَﺟَﺎﺀَﻫُﻢُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺝُ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﻣَﻜَﺎﻥٍ ﻭَﻇَﻨُّﻮﺍ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺃُﺣِﻴﻂَ ﺑِﻬِﻢْ ۙ ﺩَﻋَﻮُﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣُﺨْﻠِﺼِﻴﻦَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪِّﻳﻦَ ﻟَﺌِﻦْ ﺃَﻧﺠَﻴْﺘَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﻫَٰﺬِﻩِ ﻟَﻨَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﺎﻛِﺮِﻳﻦَ ‏[ ١٠ :٢٢ ]

“তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে এবং অনুকূল বাতাস তাঁদেরকে চালিয়ে নিয়ে যায় আর তারা এ নিয়ে আনন্দবোধ করে, এমন সময় হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় আসে এবং চতুর্দিক থেকে ঢেউ আক্রমণ করে আর তারা মনে করে যে, তারা ধ্বংসের কবরে পতিত হয়েছে, তখন তারা আল্লাহকে শিরকমুক্ত ইবাদত সহকারে ডাকে।” [ইউনুসঃ২২]।

সে আল্লাহকে এভাবে ডাকল। বিমান বিধ্বস্ত হল। সকল যাত্রী পুড়ে মারা গেল। কিন্তু অত্যাশ্চর্যভাবে মিন্দরীস বেঁচে গেল। পরে মিন্দরীস নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করল। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো এত নগণ্য ছিল যে, আমাদের আরব দেশে যদি কেউ কারো মুখ থেকে তা শুনে, তাহলে তার হাসি পাবে ও ঠাট্টা করবে।

মিন্দরীসের নির্বাচনী ইশতিহার ছিল, সে আরবী ভাষায় আযান দেয়ার অনুমতি দিবে, বিভিন্ন মক্তব পুনরায় চালু করবে এবং আয়া ছুফিয়া যাদু ঘরকে পুনরায় মসজিদে রুপান্তরিত করবে। নির্বাচন হল। নির্বাচনে কামাল আতাতুর্কের দলের ভরাডুবি হল। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে মিন্দরীস মন্ত্রীসভা গঠন করল ও নিজে প্রধানমন্ত্রী হল।

তুর্কী জনগণের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণের সময় হল। রমযানের প্রথম দিন মিন্দরীস তুরস্কবাসীকে আরবী ভাষায় আযান উপহার দেয়। মানুষ কান্নারত অবস্থায় বাজারের দিকে বের হয়। কন্সটানটিনপল বিজয়ের পর আজকের মত আনন্দের দিনের সাথে তারা আর কখনো পরিচিত হয়নি। আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ধ্বনি ইস্তাম্বুলের হাজারো মিনার থেকে এক যোগে বের হয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করছে। আজ থেকে ২৬ বছরের অধিক কাল যাবত এ মিনার সমূহ থেকে আল্লাহু আকবর ধ্বনি বের হওয়া নিষিদ্ধ ছিল। মিন্দরীস জনগণের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করায় পশ্চিমাদের অন্তরে অস্থিরতা শুরু হয়। ওয়াশিংটনে এ ব্যাপারে চাপ প্রয়োগের কথা উঠে এবং ফ্রীম্যাসনবাদীরা এর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠে। অতঃপর মিন্দরীসের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো হয় এবং তার এ কাজকে মহা বিশ্বাসঘাতকতা ও সংবিধান বিরোধী বলে অপবাদ দিয়ে তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

তুরস্কের অভিজ্ঞতা একটি অদ্বিতীয় ও সফল অভিজ্ঞতা ছিল। তাই ইউরোপ ও মার্কিনীরা এ অভিজ্ঞতা থেকে ইসলামের উৎখাতের জন্য এমন এক পদ্ধতিতে কাজ করতে শিক্ষা অর্জন করে, যা আগের চেয়ে অধিক সহজ। তারা বলে যে , আজ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না। এমন লোকদের দিয়ে এ দ্বীন ধ্বংস করতে হবে, যারা তার অনুসারী, যারা আরবীতে কথা বলে ও যারা বাহ্যিক ভাবে নামায পড়ে কিন্তু এ দ্বীনের মূলোৎপাটনের তারা আমাদের সাথে একমত।

[শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম (রহ.) এর বই পাশ্চাত্য ইসলাম বিরুধী ষড়যন্ত্র বই থেকে নেয়া]

শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম (রহ.) বর্নিত প্রতিটি ঘটনার মধ্যেই ভবিষ্যতের কিছু ইংগিত দিয়ে গেছেন.।যা বর্তমানে এতটাই বাস্তব যারা তার বই পড়েছেন তারা শুধু আশ্চর্যই হবেন…

তুরষ্কের প্রায় ৭৫ বছর নাস্তিকদের শাসনের অবসানের পর তুষ্কর্কের জনগন ইসলামকে বেছে নিয়েছে.. যার ফলে ক্ষমতায় আসে বর্তমান মডারেট মুসলমানদের সুলতান এরদোগান..

কিন্তু এই এরদোগান কি ইসলামের জন্যই কিছুই করেছে.? না কি আমেরিকার তাবেদারি করে যাচ্ছে…!,এরদোগানের মতো যদি হাজার জন নেতা ক্ষমতায় আসে আর যদি হাজার বছর শাসন করে তবুও কি ইসলামের কোনো উপকার হবে.? 

ঐসব আমেরিকা রাশিয়ার গোলামদের দ্বারা  কি কখনই ইসলাম প্রতিষ্টা করা সম্ভব.?কি পার্থক্য আছে এক নাস্তিকের শাসন আমল আর একজন ইসলামপন্থিদের শাসনকাল.?
তুরস্কের অভিজ্ঞতা একটি অদ্বিতীয় ও সফল অভিজ্ঞতা ছিল। তাই ইউরোপ ও মার্কিনীরা এ অভিজ্ঞতা থেকে ইসলামের উৎখাতের জন্য এমন এক পদ্ধতিতে কাজ করতে শিক্ষা অর্জন করে, যা আগের চেয়ে অধিক সহজ। তারা বলে যে , আজ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না। এমন লোকদের দিয়ে এ দ্বীন ধ্বংস করতে হবে, যারা তার অনুসারী, যারা আরবীতে কথা বলে ও যারা বাহ্যিক ভাবে নামায পড়ে কিন্তু এ দ্বীনের মূলোৎপাটনের তারা আমাদের সাথে একমত।

দেখুন তো শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম (রহ.) বলে যাওয়া কথার সাথে এরদোগানের কোনো মিল পাওয়া যায় কি না.?

আজকে ইউরোপ আমেরিকা মুসলমান নিধন করছে সেই সকল ব্যাক্তিদের মাধ্যমে যাদেরকে মুসলমানরা চিনে তাদের বন্ধুরুপে..।তাদেরকে  নিজেদের সুলতান হিসেবে সম্বোধন করে।ইসলামকে ধংস করার লক্ষে এখন  মুসলমান ভুমিতে সেই সব শাসকে বসানো হচ্ছে যারা চিন্তাচেতনায় গনতন্ত্রবাদি.. যারা ইসলামি শরিয়ার ঘোর বিরুধী।  

 একজন এরদোগান এবং একজন আতাতুর্কের পার্থক্য শুধু এই এরদোগান ইসলাম ধংস করে ইসলামের মুখোস পড়ে আর আতাতুর্করা ধংস করে তাদের আসল রুপে।

এসব আতাতুর্ক থেকে একদিন মুসলমানরা মুক্ত হবে সত্য কিন্তু এরদোগান রুপি মোনাফেক থেকে কি মুসলমান মুক্ত হতে পারবে.? 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s