তারা মহিলা ও শিশুদের সাথে থেকে যায়।এটা কত লজ্জার বিষয়! শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম (রহ.)

ভাইয়েরা! আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআলা কুফরী ও তার পথ থেকে বিরত রাখার কথা এক সাথে উল্লেখ করেছেন।‘ফী-সাবীলিল্লাহ(আল্লাহর পথে)’শব্দটি যখন সাধারণ ভাবে আসে,তখন এর অর্থ হয় জ্বিহাদ।আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেছেন-

ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻭَﺻَﺪُّﻭﺍ ﻋَﻦ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﺿَﻞَّ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟَﻬُﻢْ ‏[ ٤٧ :١ ‏]

“যারা কুফরী করে ও আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে)বিরত রাখে,তিনি তাদের কর্মসমূহ নষ্ট করে দেন।”[মুহাম্মদঃ১]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মানুষ যুদ্ধে যাবার জন্য তার নিকট হাতিয়ার চাওয়ার জন্য আসত।যখন তিনি বলতেন,তোমাদেরকে দেয়ার জন্য আমার কাছে হাতিয়ার নেই,তখন তারা  আল্লাহ্র রাস্তায় খরচ করতে না পারার দুঃখে অশ্রুসিক্ত নয়নে ফিতে যেত।তাদেরকে শান্তনা দিয়ে বলা হয়-

ﻟَّﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻀُّﻌَﻔَﺎﺀِ ﻭَﻟَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤَﺮْﺿَﻰٰ ﻭَﻟَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻟَﺎ ﻳَﺠِﺪُﻭﻥَ ﻣَﺎ ﻳُﻨﻔِﻘُﻮﻥَ ﺣَﺮَﺝٌ ﺇِﺫَﺍ ﻧَﺼَﺤُﻮﺍ ﻟِﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِۚ ﻣَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺤْﺴِﻨِﻴﻦَ ﻣِﻦ ﺳَﺒِﻴﻞٍۚ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَّﺣِﻴﻢٌ ‏[ ٩ : ٩١ ‏]

ﻭَﻟَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎ ﺃَﺗَﻮْﻙَ ﻟِﺘَﺤْﻤِﻠَﻬُﻢْ ﻗُﻠْﺖَ ﻟَﺎ ﺃَﺟِﺪُ ﻣَﺎ ﺃَﺣْﻤِﻠُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺗَﻮَﻟَّﻮﺍ ﻭَّﺃَﻋْﻴُﻨُﻬُﻢْ ﺗَﻔِﻴﺾُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺪَّﻣْﻊِ ﺣَﺰَﻧًﺎ ﺃَﻟَّﺎ ﻳَﺠِﺪُﻭﺍ ﻣَﺎ ﻳُﻨﻔِﻘُﻮﻥَ ‏[ ٩ :٩٢ ‏]

ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺴْﺘَﺄْﺫِﻧُﻮﻧَﻚَ ﻭَﻫُﻢْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺀُۚ ﺭَﺿُﻮﺍ ﺑِﺄَﻥ ﻳَﻜُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﺨَﻮَﺍﻟِﻒِ ﻭَﻃَﺒَﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰٰ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢْ ﻓَﻬُﻢْ ﻟَﺎ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ‏[ ٩ :٩٣ ‏]

“দুর্বল,রোগী ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে অসমর্থ লোকরা যদি আল্লাহ্ ও রাসূলের মঙ্গলকামী হয়,তাহলে তাদের কোন দোষ নেই।এ রকম ভাল লোকদের বিরুদ্ধে যাওয়ারও কোন পথ নেই।আর আল্লাহ্ হচ্ছেন ক্ষমাশীল ও দয়াময়।আর তাদেরও কোন দোষ নেই,যারা আপনার কাছে যুদ্ধ সামগ্রী চেয়েছে,কিন্তু আপনি তাদের বলেছেন,আমার কাছেতো তোমাদেরকে দেয়ার মত কিছু নেই।ফলে তারা এমন অবস্থায় ফিরে যায় যে,আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য কিছু না পাওয়ার দুঃখে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।তবে কেবল তাদেরই বিরুদ্ধে যাওয়ার পথ রয়েছে,যারা সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও আপনার কাছে যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি কামনা করে।এরা পশ্চাৎবর্তীদের সাথে থেকে যাওয়াকেই পছন্দ করেছে।আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন।ফলে তারা (ভাল-মন্দ)আর জানতে পারছে না”[সূরা তাওবাহঃ৯১-৯৩]।

তারা মহিলা ও শিশুদের সাথে থেকে যায়।এটা কত লজ্জার বিষয়!

আমাদের উপরে ফরয করা হয়েছে যুদ্ধ ও লড়া

আর গায়িকাদের কাজ আচল ধরে বসে থাকা।

মাথায় চকচকে ওয়েস্টাল ক্যাপ,গায়ে দামী জ্যাকেট ও পায়ে ঝলমলে জুতা পড়ে গাড়ী নিয়ে প্রতিদিন এদিক-সেদিক ঘুরাফেরা করাই কি তোমার কাজ?মহিলাদের কাজ করাই কি তোমার মত লোকের কাজ?এসবের ব্যাপারে অবতীর্ণ অন্য আয়াতগুলো হচ্ছে-

ﺭَﺿُﻮﺍ ﺑِﺄَﻥ ﻳَﻜُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﺨَﻮَﺍﻟِﻒِ ﻭَﻃُﺒِﻊَ ﻋَﻠَﻰٰ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢْ ﻓَﻬُﻢْ ﻟَﺎ ﻳَﻔْﻘَﻬُﻮﻥَ ‏[ ٩ :٨٧ ‏]

“তারা পশ্চাদবর্তীদের সাথে বসে থাকাকেই পছন্দ করেছে।ফলে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে।তাই তারা(ভাল-মন্দ কিছুই)বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না”[তাওবাহঃ৮৭]।

ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺃُﻧﺰِﻟَﺖْ ﺳُﻮﺭَﺓٌ ﺃَﻥْ ﺁﻣِﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺟَﺎﻫِﺪُﻭﺍ ﻣَﻊَ ﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﺍﺳْﺘَﺄْﺫَﻧَﻚَ ﺃُﻭﻟُﻮ ﺍﻟﻄَّﻮْﻝِ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺫَﺭْﻧَﺎ ﻧَﻜُﻦ ﻣَّﻊَ ﺍﻟْﻘَﺎﻋِﺪِﻳﻦَ ‏[ ٩ :٨٦ ‏]

“যখন এ মর্মে কোন সূরা অবতীর্ণ করা হয় যে,তোমরা আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আন এবং তার রাসূলের সাথে গিয়ে জ্বিহাদ কর,তখন তাদের সম্পদশালীরা আপনার কাছে যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি কামনা করে আর বলে আমাদেরকে বাদ দিন,আমরা যারা বসে আছে ,তাদের সাথে থেকে যাব।”[তাওবাহঃ৮৬]

জিহাদে অংশগ্রহণ না করার কারণে তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে।আল্লাহর কাছে এ থেকে রক্ষা কামনা করছি।কী অবস্থা ভাই তমার?তুমি যে বলছ আমি কোম্পানির ডিরেক্টর,আমি কীভাবে এ সব ছাড়ব,আমি কোথায় যাব?আমি ছোট ছোট ছেলেদের সাথে ছাদায়* বা আফগানদের সাথে পাহাড়ে গুহায় গিয়ে বসে থাকতে পারব?ওরাতো কুরআন হাদীস বুঝে না।আমি তো সব কিছু বুঝি।কিন্তু এ বুঝের লোকেরা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয কাজ ছেড়ে দিয়ে বসে আছে,সেটা তাদের খবর নেই।আর আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআলা কেবল এ ফরয কাজ ছেড়ে দেয়ার কারণেই অন্তরে মোহর মেরে দেয়ার কথা বলেছেন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s