বায়াত

বাইআ’ত এর অর্থ চুক্তিবদ্ধ হওয়া,অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া,নেতৃত্ব মেনে নেওয়া,আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
ইবনুল আসির র. বলেন,বাইআ’ত হচ্ছে প্রতিজ্ঞা ও আনুগত্য স্বীকার করা।
জাবের রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন,আমরা রাসূল সা.কে বললাম,আমরা আপনার নিকটে কি বিষয়ে বাইআ’ত করবো? জবাবে রাসূল সা. বললেন:
১.আনন্দ ও অলসতায় (সুখে-দু:খে) সর্বাবস্থায়য় আমার কথা শুনবে ও মানবে।
২.অসচ্ছল ও সচ্ছল সর্বাবস্থায় আল্লাহ’র রাস্তায় মাল খরচ করবে।
৩.ভালো কাজের নির্দেশ দিবে ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে।
৪.আল্লাহ’র পথে (যুদ্ধ করার জন্যে) সদা-সর্বদা প্রস্তুত থাকবে এবং
৫.উক্ত বিষয়ে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবে না।
৬.যখন আমি তোমাদের নিকট হিজরত করে যাবো,তখন তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং তোমাদের স্ত্রী সন্তানদেরকে যেভাবে হেফাযত করে থাকো ঠিক সেভাবে আমাকেও সাহায্য করবে এবং হেফাযত করবে।আর এর বিনিময়ে তোমাদের জন্য পুরুষ্কার রয়েছে জান্নাত।
বাইআ’তের হুকুম:-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন,আমি শুনেছি রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন,যে ব্যাক্তি শাসক বা ইমামের আনুগত্য হতে হাত গুটিয়ে নিলো,কিয়ামতের দিন সে আল্লাহ’র সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করবে যে,তার কাছে (ওযর-আপত্তির) প্রমাণ থাকবে না।আর যেই ব্যাক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে ইমাম (শাসক) এর আনুগত্যের বাইআ’ত করেনি,সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যুবরণ করলো।-(মুসলিম হা. নং ১৮৫১,আবু আওয়ানাহ ৭১৫৩,বাইহাক্বী ১৬৩৮৯,জামেউল আহাদীস ২২১৪৮)
#বাইআ’ত গ্রহণ করবে কে?
বাইআ’ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র মুসলিম খলিফার।তার কাছে জ্ঞানী ব্যাক্তিরা বাইআ’ত দিবে।তারা হচ্ছে উলামা ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ।যখন তারা আমীরের কাছে বাইআ’ত দিবে তখন আমীরের কতৃত্ব সাব্যস্ত হবে।প্রত্যের জনসাধারণের জন্য আমীরের কাছে আলাদাভাবে বাইআ’ত দেয়া ওয়াজীব নয়। বরং তাদের জন্য ওয়াজীব হচ্ছে আমীরের আনুগত্যকে অত্যাবশ্যকীয় করে নেওয়া, আল্লাহ’র নাফরমানী ছাড়া।-(বাইয়াতূ জামাআতিত তাওহীদ ওয়াল জিহাদ।)
বর্তমানে প্রচলিত পীর-মুরীদির বাইআ’ত তথা ত্বরীকার বাইআ’ত ও ফ্বকীর-হাক্বীকের বাইআতের কোন ভিত্তি নেই।রাসূল সা. এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কিরাম বিভিন্ন জায়গায়,বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন।কিন্তু তারা কেউ নিজের পক্ষে বাইআ’ত নেন নাই।তেমনিভাবে মুসলিমজাতির খিলাফত ব্যবস্থা চলাকালীন সময়ে সাহাবায়ে কিরামগণ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। তারাও কেউ বাইআ’ত নেন নাই।ইমাম আবু হানিফা রহ.,ইমাম মালেক রহ.,ইমাম শাফী রহ.,ইমাম আহমদ ইবনে হম্বল রহ.,ইমাম বুখারী রহ.,ইমাম মুসলিম রহ. সহ কোন ইমাম তার অনুসারীদের থেকে বাইআ’ত নিয়েছেন এমন কোন প্রমাণ নেই।
#পীরবাদ ও বাইআ’ত গ্রহণ রীতি:-
বস্তুত বাইআ’ত করা রাসূল স. এর নির্দেশ বটে;কিন্তু পীর-মুরীদীর বায়আত সম্পূর্ণ বিদআত,যেমন বিদয়াত স্বয়ং পীর-মুরীদী।বাইআ’ত দিতে হবে এবং বাইআ’ত না দিয়ে মারা গেলে জাহিলিয়াতের মৃত্যু হবে সহীহ হাদীস দ্বারা একথা প্রমাণিত সত্য।কিন্তু এই বাইআ’ত দিতে হবে সমস্ত মুসলিম উম্মাহকে শুধুমাত্র একজন আমীর উল মুমিনীন বা খলিফাকে আনুগত্য করার শপথের জন্য।যেমন নবী স. এর ইন্তিকালের পর খলীফা নির্বাচনী সভায় হযরত উমর ফারুক রা. সর্বপ্রথম বাই আ’ত করলেন হযরত আবূ বকর রা. এর হাতে।
চিশতীয়া,কাদিরিয়
া,নকশাবন্দীয়া,ম
ুজাদ্দিদীয়া ও মুহাম্মদীয়া তরীকায় ফকীর হাকীকের হাতে বাইআ’ত লওয়ারর বর্তমানকালে প্রচলিত এই সিলসিলা এল কীভাবে,এ বায়াআতের নবী স. সাহাবাদের বাইআ’তের সম্পর্ক কি? মিল কোথায়? আসলে এ হচ্ছে ইসলামের একটি ভালো কাজকে খারাপ ক্ষেত্রে ও খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার মত ব্যাপার।আর এ কারণেই পীর মুরীদার ক্ষেত্রে হাতে হাতে কিংবা পাগড়ী ধরে অথবা পাগড়ী ধরা লোকদের গায়ে গা মিলিয়ে বাইআ’ত করা সম্পূর্ণ বিদআত।আরো বড় বিদআ’ত হল মুরীদ ও পীরের কুরআন বাদ দিয়ে “দালায়েলুল খায়রাত” নামে এক বানানো দুরুদ সম্বলিত কিতাবের তিলাওয়াতে মশগুল হওয়া।মনে হয় এর তিলাওয়াত যেন একেবারে ফরজ।কিন্তু শরীয়াতে কুরআন ছাড়া আর কিছু তিলাওয়াত করাকে বড় সওয়াবের কাজ মনে করা,কুরআন অপেক্ষা অন্য কোন মানবীয়য় কিতাবকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করা সুস্পষ্টরুপে এক বড় বিদআত।
তবে তাদের বাইআ’তকে বৈধ করার জন্য যে সমস্ত দলিলগুলি পেশ করে তা হচ্ছে কুরআনের সুরা ফাতাহের ১০ নং আয়াত।যে আয়াতে “বাইআ’তুর রিদওয়ান” এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
#খলিফা কতজন হবে?
পূর্বের আলোচনার দ্বারা পরিষ্কার হয়ে গেল যে,বাইআ’ত শুধু মুসলিমদের খলিফা বা ইমামকেই দিতে হবে।এখন প্রশ্ন হলো যে,একই সঙ্গে একাধিক খলিফা বা ইমামকে বাইআ’ত দেয়া যাবে কিনা।
১. এ সম্পর্কে আবু সায়ীদ রা. বলেন, রাসূল সা. বলেন,” যদি একই সময়ে দুইজন খলিফা বাইআ’ত গ্রহণ করে তাহলে দ্বিতীয় জনকে কতল করে ফেল।”-{সহীহ মুসলিম,”কিতাবুল ইমারাহ বা প্রশাসন ও নেতৃত্ব অধ্যায়”,যদি দুইজন ইমাম (রাষ্ট্র প্রধানের) পক্ষ থেকে বাইআত গ্রহণ করা হয়” পরিচ্ছেদ।}
২. আরফাজা রা. বলেন,আমি রাসূল সা.কে বলতে শুনেছি,তিনি বলেছেন:অচিরেই বিভিন্ন ধরণের নতুন নতুন বিশৃঙ্খলা ও কলহ-বিবাদের সৃষ্টি হবে।সুতরাং যে ব্যাক্তি এই উম্মতের(উম্মতে মুহাম্মদীর) ঐক্য ও সংহতির মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে চায় এবং তাদের ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাতে চেষ্টা করে,তলোয়ার দ্বারা তোমরা তাকে শায়েস্তা কর।চাই সে-যে কেউ হোক না কেন।”-{সহীহ মুসলিম ৪৯০২,(“কিতাবুল ইমারাহ বা প্রশাসন ও নেতৃত্ব অধ্যায়”,”যদি দুইজন ইমাম(রাষ্ট্রপ্রধানের­) পক্ষ থেকে বাইআ’ত গ্রহণ করা হয় পরিচ্ছেদ।) মুসনাদে আহমদ ১৯০০০।
#একটি বিভ্রান্তি নিরসন:-
তরীকার পীর সাহেবগণ তাদের মুরীদদের বিভ্রান্ত করার জন্য বলে থাকেন যে,এই তরীকায় বাইআ’ত নাকি হযরত আলী রা. হতে চলে এসেছে।আর হযরত আলী রা.কে স্বয়ং রাসূল সা. খিলাফত দিয়েছেন।এভাবে তারা আলী রা.কে চার তরিকার পীর বানিয়ে মনগড়া একটি শাজারা (পীরদের ধারাবাহিক সিলসিলা) তৈরি করে সাধারণ মুসলিমদের ধোকা দিচ্ছে।
আমরা তাদের জবাবে বলতে চাই যে,এই বক্তব্য মূলত:শিয়াদের।শিয়াদের­ আক্বীদা হলো যে,আল্লাহর রাসূল সা. “গাদীরে খুম” নামক জায়গায় হযরত আলী রা.কে খিলাফত প্রদান করেন। সে মতে রাসূল সা. এর পরে তিনিই সরাসরি খলিফা।আবু বকর রা.,উমর রা.ও ওসমান রা. এই তিনজনই অবৈধ খলিফা,এরা ছিল মুরতাদ।(নাউজুবিল্লাহ­)। এদেরকে যারা মান্য করেছে তারাও মুরতাদ হয়ে গেছে।তরিকার পীর-মাশায়েখগন যে আলী রা.কে চার সকল পীরদের পীর বলেন এবং রাসূল সা. এর খলিফা বলেন,তাহলে তারাও কি শিয়াদের মত আবু বকর,উমর,ওসমান রা.কে অবৈধ খলিফা বলবেন? আলী রা.কে যদি আল্লাহ’র রাসূল সা. খলিফা নিযুক্ত করেই থাকেন তাহলে “ছকিফায়ে বনু সায়েদাহ” তে বসে নতুন খলিফা নিযুক্তির প্রয়োজনইবা ছিল কি? এটা আল্লাহ’র রাসূল সা.কে সরাসরি অমান্য করা নয় কি?

তাছাড়া ঐখানে উপস্থিত সাহাবারা যখন আবু বকর রা.কে বাইআ’ত দিলেন।তারপর আবার মসজিদে নববী’তে “আম বাইআ’ত” নিলেন তখন বাকি সাহাবীদের উচিত ছিল আবু বকর রা.কে হত্যা করে ফেলা।কারণ আল্লাহ’র রাসূল সা. বলেছেন,”যখন দুই খলীফার বাইআ’ত তখন তোমরা দ্বিতীয় জনকে হত্যা করো।”
যখন সাহাবাগণ আবু বকর রা.কে হত্যা করলেন না বরং হত্যা তো দুরের কথা কেউ তাদের বিরোধিতাও করলেন না।আলী রা.কে খিলাফত দেওয়ার প্রসঙ্গও কেউ আনলেন না।এমনকি খোদ আলী রা. নিজেও কোন আপত্তি তুললেন না;তাহলে বুঝতে হবে যে আলী রা.কে খিলাফত দেওয়ার বিষয়টি কোন সাহাবী জানতেন না এমনকি খোদ আলী রা.ও জানতেন না।বরং পীর সাহেবগণ তাদের গোপন কাশফের মাধ্যমে জেনেছেন। আর তা না হলে এগুলো হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মিথ্যা রটনা করা হয়েছে।আর মূলত:বিষয়টি তাই।

এখন পীর সাহেবগণ বলতে পারেন যে,আলী রা.কে যে খেলাফত প্রদান করা হয়েছিল সেটা ছিল “তাসাউউফ বা বাতেনী খিলাফত”।তাহলে আমি জানতে চাই যে রাষ্ট্রীয় খিলাফত আর ধর্মীয় খিলাফত কি আলাদা?সেই আধ্যাত্মিক খলিফা একাধিক হতে পারেন?তাহলে আমার প্রশ্ন হলো আবু বকর,উমর,ওসমান রা. এর কি সেই খিলাফত পাওয়ার যোগ্য ছিলেন কিনা?পীরদের খলিফা যদি একই সাথে শত শত হতে পারেন তাহলে আল্লাহ’র রাসূল সা. শুধুমাত্র একজনকে খিলাফত দিলেন কেন? আল্লাহ’র রাসূল সা.এর লক্ষাধিক সাহাবাদের মধ্যে শুধু কি একজনই সেই যোগ্যতা লাভ করলেন? আর পীর সাহেবগণ রাসূল সা.এর থেকে কয়েক শতগুণ বেশি খিলাফতের যোগ্য লোক তৈরি করেছেন?এটা কি রাসূল সা. এর মত মহান মুয়ালি-মকে পীর সাহেবদের থেকে ছোট করা হলো না? নাকি পীর সাহেবগণও শিয়া? যাদের আক্বীদা আলী রা. সহ কয়েকজন সাহাবী ছাড়া আবু বকর,উমর,ওসমান রা.সহ সবাই ছিল মুনাফিক এবং রাসূল সা. এর মৃত্যুর পর সবাই মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।

আসল রহস্যটা কিন্তু এখানেই।এই প্রচলিত পীর-মুরিদীর তরিকা,খিলাফত,বা
ইআ’ত সবকিছুই শিয়াদের থেকে আমদানীকৃত।এমনকি খোদ “পীর” শব্দটিয় ফার্সী যা ইরানী শিয়াদের মাতৃভাষা এবং পীরদের কবিতা-কাহিনী বেশির ভাগই ফার্সি ভাষায়।ফার্সী ভাষার মাধ্যমে শিয়াদের আক্বীদা,আর উর্দু ভাষার মাধ্যমে হিন্দুদের সন্যাসীবাদ এবং ধর্মীয় খলিফা আর রাষ্ট্রীয় খলিফা আলাদা করার মাধ্যমে খৃষ্টানদের বৈরাগ্যবাদকে গ্রহণ করে বিভিন্ন প্রকার দেশীয় গাছ-গাছরায় তৈরি একটি ভেষজ ইসলাম পালণ করছেন এদেশের লক্ষ লক্ষ মুসলমান।
#বাইআ’তের পদ্ধতি:-
কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে বাইআ’ত দেওয়া ও নেওয়ার পদ্ধতি-
১.মুসাফা বা কথার মাধ্যমে:-বাইআ’ত গ্রহণকারীর হাতের উপর বাইআ’ত প্রদানকারীর হাত রেখে আনুগত্যের মৌখিক ঘোষনা দেওয়া।দলিল:”আর যারা তোমার কাছে বাইআ’ত গ্রহণ করে;আল্লাহ’র হাত তাদের হাতের উপর।”-সূরা ফাতাহ,৪৮:১০
ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রা. এর বাইআ’ত এই পদ্ধতিতেই হয়েছিল।
২.শুধুমাত্র কথার মাধ্যমে:- দলিল:আমর তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন,”সাক্বীফ” গোত্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক ব্যাক্তি কোষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।রাসূল সা. তার প্রতি নির্দেশ পাঠালেন,”তুমি ফিরে যাও।আমি তোমার বাইআ’ত নিয়েছি।”-সুনানে নাসায়ী ৪১৯৩,তাহজীবুল আসার ১২৮৮,জামেউল আহাদীস ৩১৪০,জামেউল উসুল ৫৪৮৯,ইতহাফুল খিয়ারাহ ৪৫২৮,বায়হাক্বী ১৪০২২,আহমদ ১৯৪৯২।
রাসূল সা. মহিলাদের থেকে এই পদ্ধতিতেই বাইআ’ত গ্রহণ করতেন। মহিলাদের সাথে মুসাফাহা করে কখনো তিনি বাইআ’ত গ্রহণ করেন নি।
৩.বাইআ’ত চিঠি বা লেখার মাধ্যমে:- দলিল:আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার রা.হতে বর্ণিত।তিনি বলেন যখন,”লোকেরা আব্দুল মালিকের নিকট বাইআ’ত নিল,তখন আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা.তার কাছে চিঠি লিখলেন-আল্লাহ’র বান্দা,মুমিনদের নেতা আব্দুল মালিকের প্রতি,আমি আমার সাধ্য মোতাবেক আল্লাহ ও তার রাসূল সা. এর সুন্নত অনুযায়ী তার কথা শোনার ও তাকে মেনে চলার অঙ্গীকার করছি আর আমার ছেলেরাও তেমনি অঙ্গীকার করছে।”-সহীহ বুখারী ৭২০৩(আ.প্র.৬৬৯৯,ই.ফা­.৬৭১২)

বাইআ’ত দানের ক্ষেত্রে সাধারণত মুসলিম জনতাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণ।
১.বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের বাইআ’ত:-“আহলুল হাল-ওয়াল আক্বদ” অর্থাৎ যাদের ইমাম নির্বাচন করার যোগ্যতা আছে যেমন:উলামা,ফুজালা এবং নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ তারা সরাসরি ইমামের হাতে হাত দিয়ে বাইআ’ত দিবে।যদি উপস্থিত থাকে।আর যারা দূরে থাকে তারা সাক্ষীদের সামনে বাইআ’তের ঘোষনা দিবে।তবে এক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহর সমস্ত “আহলুল-হাল ওয়াল আক্বদ”কে একত্র হয়ে বাইআ’ত দেয়া শর্ত নয়।দলিল:”আহলুল হাল ওয়াল আক্বদ (জ্ঞানী) লোকদের বাইআ’তই যতেষ্ট।প্রত্যেক জনসাধারণের উপস্থিত হয়ে আমীরের হাতে বাইআ’ত দেয়া জরুরী নয়।বরং যতেষ্ট হচ্ছে আমীরের আনুগত্য মেনে নেওয়া তার নির্দেশের বিরোধিতা না করা।-(ফাতহুল বারী শরহে সহীহুল বুখারী ১৬/২২৮)।
২.সাধারণ জনগণ এর বাইআ’ত:-“আহলুল হাল ওয়াল আক্বদ”এর বাইআতের ভিত্তিতে যে খলিফাকে ইতিপূর্বেই মনোনিত করা হয়েছে সাধারণ মুসলিম জনগণ সেই খলিফাকে বাইআ’ত দিবে।তাদের সরাসরি ইমামের হাতে বাইআ’ত দেয়া জরুরী নয়।বরং তাদের জন্য এ আক্বীদা পোষণ করাই যতেষ্ট যে,তারা উক্ত ইমামের অধীনে আছে।এবং তার আনুগত্য মেনে নিয়েছে।সে মতে তারা ইমামের সকল আদেশ নিষেধ মেনে চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত ইমাম আল্লাহ’র আনুগত্যের পরিপন্থী কোন হুকুম না করে।এ বিষয়ে সহীহ হাদিসে বর্নিত হয়েছে,আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত;তিনি উমর রা. এর দ্বিতীয় ভাষণটি শুনেছেন।যা তিনি রাসূল সা. এর ইন্তিকালের পরদিন মিম্বরে বসে দিয়েছিলেন।তিনি বলেন:আমি আশা করেছিলাম রাসূল সা. আমাদের মধ্যে বেচে থাকবেন এবং আমাদের পিছনে যাবেন।এ থেকে তার উদ্দেশ্য ছিল যে, তিনি সবার শেষে ইন্তিকাল করবেন।তবে হযরত মুহাম্মদ স.যদিও ইন্তিকাল করেছেন আল্লাহ তোমাদের মাঝে এমন এক নূর (কুরআন) রেখেছেন যা দ্বারা তোমরা হিদায়েত পাবে।আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ সা.কে এই নূর দিয়ে হিদায়েত করেছিলেন। আবু বকর রা. ছিলেন তার সঙ্গী এবং দুজনের দ্বিতীয় জন।তোমাদের এ দায়িত্ব বহন করার জন্য মুসলিমদের মধ্যে তিনিই সর্বোত্তম। সুতরাং তোমরা উঠ এবং তার হাতে বাইআ’ত গ্রহণ কর।অবশ্য এক জামাত ইইতিপূর্বে বনী “ছাক্বীফা” গোত্রের ছত্রছায়ায় তার হাতে বাইআ’ত গ্রহণ করেছিল। আর সাধারণ বাইআ’ত হয়েছিল মিম্বরের উপর।
ইমাম জুহরী বলেন যে,আনাস ইবনে মালিক রা. বলেছেন;আমি উমর রা.কে বলতে শুনেছি যে তিনি আবু বকর রা.কে বলতে লাগলেন;আপনি মিম্বরে উঠুন।অগত্যা তিনি মিম্বরে উঠলেন।তারপ্র সাধারণ জনগণ তাকে বাইআ’ত দিলেন।-(সহীহ বুখারী,মুসনাদে সাহাবা ৩২,মুজামূল আওসাত ৯১৬৯)।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s